ডেঙ্গু জ্বর -কি, রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ। Dengue In Bengali

আজকে আমরা ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপারে জেনে নেব সবকিছু ডেঙ্গু জ্বর কি, জীবাণু কি, ডেঙ্গু কিভাবে ছড়ায়, ডেঙ্গু রোগের বা জ্বরের লক্ষণ, ডেঙ্গুর নির্ণয় টেস্ট, চিকিৎসা, ডেঙ্গু প্রতিরোধের করণীয় উপায় ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত

Contents hide

ডেঙ্গু জ্বর কি

Dengue বা ডেঙ্গু জ্বর হল ডেঙ্গু নামক ভাইরাসের সৃষ্ট এক ধরনের জ্বর, যেটি মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। ডেঙ্গু সাধারণ ভাষায় ‘হাড় ভাঙ্গা জ্বর’ নামে পরিচিত।

আমাদের পরিবেশে তিন ধরনের মশা থাকে, অ্যানোফিলিস, এডিস এবং কিউলেক্স। প্রত্যেকটি মশার আবার স্ত্রী ও পুরুষ ভাগ রয়েছে। মুলত স্ত্রী এডিস মশা এই রোগ ছড়িয়ে থাকে।

সংক্রমিত এডিস মশার কামড় দ্বারা এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষণগুলি নিয়ে ওয়াকিবহাল না হলে কিছু ক্ষেত্রে এই রোগটি জীবন বিপন্ন করা ডেঙ্গু হেমারেজিক ফিভার (ডি এইচ এফ ) অর্থাৎ রক্তক্ষরিত ডেঙ্গু জ্বরে পরিণত হয় এবং এর ফলে

  • রক্তপাত ঘটে
  • রক্তে অনুচক্রিকার স্বল্পতা ঘটে ও রক্তরস ক্ষরিত হয়

ডেঙ্গু ভাইরাস

ডেঙ্গু ভাইরাস একটি positive single-stranded RNA virus । এটি যে পরিবারের অন্তর্গত সেই একই পরিবারের অন্তর্গত জাপানী এনসেফালাইটিস ভাইরাস, জিকা ভাইরাস এর মত কিছু ভাইরাস।

ডেঙ্গু-জ্বর-dengue-in-bengali

ডেঙ্গু ভাইরাস

ডেঙ্গু ভাইরাসের গঠন

ডেঙ্গু ভাইরাসের গঠনে সাধারণত থাকে ভেতরের জেনেটিক মেটিরিয়াল, বাইরের আবরণী ও বাইরের আবরণীর মধ্যে গেঁথে বেরিয়ে আসা অংশ যা, ভাইরাসকে কোনো কোষের উপর বসতে বা অ্যাটাচ হতে সাহায্য করে

এই ভাইরাসের তিনটি অংশ –

  1. জেনেটিক মেটিরিয়াল – এটি ভাইরাসের একদম ভেতরের positive single-stranded RNA virus, যা ভাইরাসের প্রধান অংশ।
  2. আবরণী প্রোটিন – এই ভাইরাসের আবরণী প্রোটিন হিসাবে রয়েছে prM/M protein এবং capsid protein C যা, ভাইরাসের ভেতরের আরএনএ কে আবদ্ধ বা ঢেকে রাখে। 
  3. বাইরের অ্যাটাচমেন্ট প্রোটিন – এই ভাইরাস যখন আমাদের আক্রমন করে আমাদের কোষের উপর বসতে সাহায্য করে E protein, যা অন্যান্য ভাইরাসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন 

ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রকার

ডেঙ্গু ভাইরাসের সাধারনত চারটি প্রকার বা serotype রয়েছে যা হল –

  • DENV 1
  • DENV2
  • DENV3
  • DENV4

এখানে DEN মানে ডেঙ্গু এবং V মানে ভাইরাস

ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক

সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস আমাদের দেহে বহন করে নিয়ে আসে স্ত্রী এডিস মশা যার বিজ্ঞানসম্মত নাম – Aedes aegypti

ডেঙ্গু জ্বর -কি, রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ। Dengue In Bengali

এই মশাটি সহজে চেনা যায়, এই এডিস মশার দেহে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যে কারণে এটিকে টাইগার মশাও বলা হয়।

ডেঙ্গু কিভাবে ছড়ায়

  • প্রথমে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্ত্রী এডিস মশা কামড়ায় এবং তার দেহে থাকা ডেঙ্গু ভাইরাস মশার শরীরে চলে আসে
  • এবার মশাটি সুস্থ একটি ব্যক্তিকে কামড়ায়
  • সুস্থ ব্যক্তি কামড়ানোর কিছু সময় সেরকম কিছু বুঝতে না পারলেও কিছুদিন পর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা যায়।কামড়ানোর পর থেকে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সময়টাকে বলা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড
  • এইভাবে মশার মাধ্যমে চক্রাকারে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে ডেঙ্গু রোগটি ছড়ায়।
  • কোনো ব্যক্তি একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার আবারও ডেঙ্গুতে আক্রমণের চান্স থাকে। তবে ব্যক্তিটি চারটি ভাইরাসের মধ্যে যেকোনও একটি ভাইরাসের দিয়ে আক্রান্ত হলে সেই একই ভাইরাস দিয়ে আবার আক্রান্ত হবেনা।

এক্ষেত্রে সব সময়ই প্রথম সংক্রমণের থেকে দ্বিতীয় সংক্রমণের লক্ষণ তীব্র ও মারাত্মক হয়।

ডেঙ্গু ভাইরাস রোগীর শরীরে কি করে ?

আমাদের শরীর কোষ দিয়ে তৈরি এবং কোষের আবরণী সাধারণত কিছু বিশেষ জিনিসকেই (যেগুলো আমাদের সেরকম বিশেষ কোনো ক্ষতি করে না) কোষের বাইরে আসতে এবং ভেতরে যেতে allow করে। সেই জন্য কোষপর্দা অর্ধভেদ্য বা semi-permeable। কোষ আবরণী মসৃণ হয় সেজন্য কোনো পদার্থ বাইরে থেকে কোষের পর্দায় বসতে পারেনা

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে কোষের আবরণীর বাইরে দিকে রিসেপ্টর নামের একটি কাঁটার মতো অংশ থাকে যেটি এমন বিশেষ ধরনের আকারের হয়, যে কেবল নির্দিষ্ট আকারের একটি বস্তু বাইরে থেকে এসে খাপে খাপে বসতে পারবে, ঠিক তালা চাবির মতো, নির্দিষ্ট তালার একটি চাবি, এবং সেই চাবি দিয়েই ওই তালাটি খুলে যাবে। রিসেপ্টরের খাপে খাপে কোনো প্রোটিন বসলে রিসেপ্টরের আকারের পরিবর্তন হয় এবং ওই প্রোটিনটিকে কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়

এখন আমরা জেনে নেব ভাইরাসটি আমাদের শরীরে কিভাবে ঢোকে। ভালোভাবে বোঝার জন্য – ক, খ, গ প্রভৃতি স্টেপ অনুযায়ী নীচের ছবিটি দেখুন ডেঙ্গু জ্বর -কি, রোগের লক্ষণ। Dengue In Bengali

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা কামড়ানোর পর ভাইরাস আমাদের চামড়ার কোষগুলোর (human skin cell) কাছে আসে। কারন এই কোষই হল বেশিরভাগ ভাইরাসেরই আক্রমণ করার প্রধান জায়গা।

  • ক. ভাইরাসটির বাইরে কাঁটার মত E protein নামের অ্যাটাচমেন্ট প্রোটিন থাকে, কিন্তু সেটি কোষ আবরণীর বাইরের মসৃণ গায়ে বসতে পারেনা ফলে কোষের রিসেপ্টরের উপর বসে, এবং চামড়ার কোষগুলোর রিসেপ্টরে খাপে খাপে বসে গেলে ডেঙ্গু ভাইরাস  কোষের একদম ভেতরে ঢুকতে পারে
  • . কোষ এর ভেতরে ঢুকে ভাইরাসটি কোষপর্দার আবরণী ভাঁজ হয়ে এন্ডোসোম তৈরি করে, যা সাধারণত কোষের বাইরে থেকে বড় অণু এবং কণা গ্রহণের জন্য কোষ এন্ডোসোমগুলি ব্যবহার করে, পুষ্টির পেতে
  • গ. এরপর এন্ডোসোম ভেতরে থাকা ভাইরাস, এন্ডোসোম ও আবরণী ভেঙ্গে তার ভেতরের সূত বা ফিতের মত RNA কে বের করে আনে কোষের মধ্যে, এবং ভাইরাল আরএনএ তারপরে নিজের প্রতিরূপ বা কপি তৈরি করতে হোস্ট সেলটির বা ওই কোষটির যন্ত্রপাতি হাইজ্যাক করে ফেলে
  • ঘ. সেই RNA টি কোষের রাইবোজোমকে ব্যবহার করে জেরক্স করার মতো নিজের অনেক কপি বানিয়ে ফেলে, এবং সেখান থেকে প্রচুর ডেঙ্গু ভাইরাস তৈরি হয়
  • ঙ. এবার কোষের ভেতরে তৈরি হওয়া অসংখ্য ভাইরাস কোষকে ফাটিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, পরে মশা কামড়ালে চামড়ার ভেতর থেকে ভাইরাস আবার নতুন ব্যক্তির দেহে সংক্রামিত হয়

ডেঙ্গু রোগের বা জ্বরের লক্ষণ

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী একটি মশা একটি সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর থেকে শুরু করে ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত ম্যাক্সিমাম  3 থেকে 14 দিনের ব্যবধান থাকে। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগে পর্যন্ত এই সময়কে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলে।

ডেঙ্গু রোগের বা জ্বরের লক্ষণ বা উপসর্গ  

ডেঙ্গু রোগের সাধারন কিছু লক্ষণ হল –

  • অক্ষিগোলক বা চোখের পেছনে ব্যথা
  • প্রচণ্ড জ্বর এবং মাথাব্যথা।
  • পেশী এবং গাঁটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা।
  • বমি বমি ভাব
  • শরীরে ব্যথা, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া
  • কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে র‍্যাশ বা দানা দেখা দেওয়া
  • অবসন্নতা বা ক্লান্তি
  • ফুসফুস, লিভার ও হার্টে সমস্যা।
  • গলাব্যথা বা স্বরভঙ্গ।
  • তলপেট ও সারা শরীরে যন্ত্রণা।
  • শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (কাঁপুনি)

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি সপ্তাহখানেক বা তার ভেতরেই সেরে ওঠে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ আরও খারাপ আকার ধারণ করলে সেটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। সেক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।

জানুন – ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ বিস্তারিত

ডেঙ্গু নির্ণয় টেস্ট (Dengue Diagnosis in Bangla)

ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয় করা অনেকটাই কঠিন কারণ এর লক্ষণগুলি সহজেই অন্যান্য রোগগুলির যেমন – চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস, ম্যালেরিয়া এবং টাইফয়েড জ্বরের সাথে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে

ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয় করতে সাধারণত কিছু মিশ্র ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হয় কারণ ভাইরাসের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা গতিশীল এবং জটিল। কিছু পরীক্ষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –

  • Polymerase chain reaction (PCR) – পিসিআর পরীক্ষা যা ভাইরাসের উপস্থিতি চেক করে তা সাধারণত নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হয়। এই পরীক্ষা দিয়ে লক্ষণ শুরুর 7 দিন অবধি ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয় করা যায় এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের 4 টি সেরোটাইপগুলির মধ্যে কোনটি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে তা নির্ধারণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • অ্যান্টিবডি টেস্ট, IgM এবং IgG – এই টেস্টটি করা হয় IgM এবং IgG অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করতে, যখন কোনও ব্যক্তির ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে । কমপক্ষে 4 দিন ব্যক্তির ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরে, এই পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর হয়।
  • রক্তের সম্পূর্ণ গণনা (Complete blood count) – এই পরীক্ষার মাধ্যমে  অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে রক্তের platelet count, হিমোগ্লোবিন হ্রাস গণনা, red blood cell (RBC) গণনা (অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার প্রমাণ ), মোট শ্বেত রক্ত ​​কণিকা (white blood cell) গণনা ইত্যাদি সনাক্ত করা হয়। যেগুলো সব ঘটে মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরের ফলে রক্ত ক্ষয়ের সাথে
  • Basic metabolic panel (BMP) – এই টেস্ট করা হয় কিডনির function পরীক্ষার জন্য এবং ডিহাইড্রেশন সংক্রান্ত প্রমাণ খোঁজার জন্য, যেটি ডেঙ্গুজনিত মারাত্মক অসুস্থতার ফলে হতে পারে

ডেঙ্গুর চিকিৎসা ( Treatment of Dengue Bangla)

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীই সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে গোলমেলে রোগ, সেজন্য সাধারণত লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।

  • ডেঙ্গুর জন্য কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই।
  • সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
  • রোগীর হাইড্রেটেড থাকার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে জল, শরবত, ডাবের জল ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • খেতে না পারলে বিকল্প হিসাবে দরকার অনুযায়ী স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে।
  • অ্যাসপিরিন (অ্যাসিটাইলস্যালিসাইলিক অ্যাসিড), অ্যাসপিরিনযুক্ত ওষুধ এবং অন্যান্য ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (যেমন – আইবুপ্রোফেন) এড়িয়ে চলা উচিত তাদের anticoagulant property র জন্য । এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করনীয় উপায়

২০১৫ এর শেষ দিকে এবং 2016 সালের গোড়ার দিকে, স্যানোফি পাস্তুরের প্রথম ডেঙ্গু ভ্যাকসিন, Dengvaxia (CYD-TDV), 9-45 বছর বয়সী ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য বেশ কয়েকটি দেশে register হয়েছিল। তবে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা।

এডিস এমন একটি মশা,যা স্বচ্ছ পরিষ্কার জমে থাকা জলে ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের জল এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা মারার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

১. সামাজিক প্রতিকার 

  • বাড়ীর আসে পাশে পুকুর নর্দমা, ঝোপজঙ্গল যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে
  • কিছু ক্ষেত্রে ডিডিটি জাতীয় ওষুধ স্প্রে করা দরকার
  • ডেঙ্গু সম্পর্কে আসে পাশের মানুষকে সচেতন করা দরকার
  • জমে থাকা জলে লার্ভা ভক্ষণকারী মাছ যেমন – গাপ্পি, তেচোখা ছেড়ে রাখা উচিত

২. ঘরের প্রতিকার

  • বাড়িতে জমে থাকা আবর্জনা জমা পরিষ্কার করতে হবে এবং যতটা সম্ভব নোংরা প্রতিরোধ করতে হবে
  • ডেঙ্গুর মশার প্রাদুর্ভাব আটকাতে বাড়ির প্রতিটি কোণ ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। দরকার হলে স্যাঁতস্যাঁতে কোণা পরিষ্কার করে মশার স্প্রে দিয়ে মশা আটকাতে হবে
  • যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ জল জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি থেকে জল ফেলে দিতে হবে।
  • ঘরের বাথরুমে বা কোথাও জমানো জল যেন বেশিদিন না থাকে। অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচেও যেন বেশিদিন পুরনো জল জমে না থাকে
  • যেখানে জল থাকা আবশ্যক যেমন – জলের ট্যাঙ্ক, জলের পাত্র ইত্যাদি ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে।
  • ঘরের দরজা-জানালায় নেট বা জাল লাগাতে হবে।

৩. নিজের প্রতিরোধ

  • মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
  • মশা মারা স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করা দরকার
  • কিছু ক্ষেত্রে মশা আটকানোর জন্য ক্রিমের ব্যবহার করা যেতে পারে
  • পুরো হাতা জামা সহ ক্রিম লাগিয়ে মশার কামড়ের হাত থেকে বাঁচুন।
  • মশার কামড়ের হাত থেকে বাঁচতে হাত পা ঢাকা জামাকাপড় পড়ুন।
  • রোগ ছড়ানো আটকাতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের সবসময়ে মশারীর মধ্যে রাখুন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের সাহায্য নিন।
  • ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে কোনো মশা কামড়াতে না পারে।

কিছু প্রশ্ন উত্তর

ডেঙ্গু রোগের জীবাণুর নাম কি ?

ডেঙ্গু রোগের জীবাণুর নাম ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV)

ডেঙ্গু কি ?

Dengue বা ডেঙ্গু জ্বর হল ডেঙ্গু নামক ভাইরাসের সৃষ্ট এক ধরনের জ্বর, যেটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে।

কোন মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয় ?

মুলত স্ত্রী এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়

ডেঙ্গু কোন ভাষার শব্দ ?

ডেঙ্গু স্পেন ভাষার শব্দ

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কি কি ?

চোখের পেছনে ব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর ও মাথাব্যথা, পেশী এবং গাঁটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, অবসন্নতা বা ক্লান্তি, গলাব্যথা বা স্বরভঙ্গ, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (কাঁপুনি)

ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় কি কি ?

বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা।

ডেঙ্গু কি ধরনের রোগ ?

ডেঙ্গু ভাইরাসঘটিত রোগ

ডেঙ্গু রোগের কারণ কি ?

ডেঙ্গু রোগের কারণ ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার কামড়

রেফারেন্স

 

Sharing is Caring ❤

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *