থাইরয়েড -কি,কমানোর উপায়,লক্ষণ বিস্তারিত | Thyroid in Bengali

আজকের দিনে অনেকেরই থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে পুরুষদের  তুলনায় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বেশি যায়। তবুও অনেকেই আমরা এই Thyroid সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না।

আজ আমরা জেনে নেব এই রোগটি নিয়ে বিস্তারিত, এই লেখায় যে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব – থাইরয়েড কি (Thyroid meaning in Bengali), কমানোর উপায়, লক্ষণ, হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত

Contents hide

থাইরয়েড কি (Thyroid Meaning in Bengali)

থাইরয়েড -কি,কমানোর উপায়,লক্ষণ বিস্তারিত | Thyroid in Bengali

থাইরয়েড হল, একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলার সামনে দিকে থাকে। সাধারণত আমাদের গলার সামনে একটি ফোলা অংশ থাকে যাকে বলে Adam’s apple। সেই ফোলা অংশটির ঠিক নিচেই থাইরয়েড গ্রন্থি অবস্থান করে।

থাইরয়েড -কি,কমানোর উপায়,লক্ষণ বিস্তারিত | Thyroid in Bengali

থাইরয়েড গ্রন্থি পিছন থেকে ভিউ

এটি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। থাইরয়েড গ্রন্থির দুটি লোব বা প্রকোষ্ঠ রয়েছে , যা শ্বাসনালীর দুই দিকে অবস্থান করে।

সাধারণত থাইরয়েড গ্রন্থি বাইরে থেকে দেখা যায়না তবে আঙ্গুল দিয়ে গলায় স্পর্শ করলে আপনি অনুভব করতে পারবেন ।

থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ কি ( Function Of Thyroid Bangla)

থাইরয়েড গ্রন্থি প্রধানত হরমোন তৈরি করে আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রন করে যেমন –

  • শ্বাসপ্রশ্বাস
  • হার্ট রেট
  • কেন্দ্রীয় এবং পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্র ( centeral and peripheral nervous system)
  • body weight
  • পেশি বা muscle strength
  • ঋতুচক্র
  • শরীরের তাপমাত্রা
  • কোলেস্টেরলের মাত্রা

থাইরয়েড কিভাবে কাজ করে (How Thyroid Gland Works)

থাইরয়েড গ্রন্থিটি আমাদের অন্তঃক্ষরা বা endocrine system এর অংশ। এটি হরমোন তৈরি করে, হরমোন জমা করে রাখে এবং প্রয়োজনে রক্তপ্রবাহে হরমোন release করে বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয়।

থাইরয়েড গ্রন্থি খাবার থেকে আয়োডিন গ্রহণ করে এবং তা থেকে দুটি হরমোন তৈরি করে –

  1. ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন বা T3 (Triiodothyronine)
  2. থাইরোক্সিন বা T4 (Thyroxine)

স্বাভাবিকভাবে শরীরে T3 এবং T4 হরমোনের level নিয়ন্ত্রণে থাকা খুবই বেশি জরুরী, T3 এবং T4 হরমোন level কখনই খুব বেশি high বা খুব বেশি low হওয়া ক্ষতিকর

থাইরয়েড -কি,কমানোর উপায়,লক্ষণ বিস্তারিত | Thyroid in Bengali

হরমোনের level নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের মস্তিষ্কের অন্য দুটি গ্রন্থি — হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি  T3 এবং T4 হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে একে অপরের সাথে নির্ভরশীল

থাইরয়েড গ্রন্থিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি। মস্তিষ্কের এই পিটুইটারি গ্রন্থিকে আবার নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশটি।

  1. এই হাইপোথ্যালামাস থাইরয়েড রিলিজিং হরমোন (TRH) নামের এক হরমোন নির্গত করে।
  2. আবার এই থাইরয়েড রিলিজিং হরমোন বা TRH হরমোন এর কাজ হল পিটুইটারি গ্রন্থিকে থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন(TSH) নামক এক হরমোন নির্গত করার জন্য সংকেত পাঠায়।
  3. এই থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) শেষে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন যথা – T3 এবং T4 নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রন করে।
  4.  থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কম বেশি হলে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজন অনুসারে নেগেটিভ ফিডব্যাক পদ্ধতিতে হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন যথাক্রমে বেশি বা কম রিলিজ করার সঙ্কেত পাঠায়

যখন রক্তে T3 এবং T4 কম থাকে তখন পিটুইটারি বেশি TSH release করে দেয়, যাতে থাইরয়েড বেশি করে হরমোন তৈরি এবং রিলিজ করে

আবার যখন রক্তে T3 এবং T4 থাইরয়েড হরমোন দুটির মাত্রা বেশি থাকে, তখন পিটুইটারি কম TSH release করতে থাকে

সুতরাং, এ থেকে বোঝা যায়, T3 এবং T4 থাইরয়েড হরমোন রিলিজের জন্য শুধুমাত্র থাইরয়েড গ্রন্থি দায়ী নয়, থাইরয়েড আবার হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি গ্রন্থির সাথে মিলিতভাবে কাজ করে

এখন অনেক ক্ষেত্রে, তিনটি গ্রন্থির একটিও যদি কম বা বেশি হরমোন রিলিজ করে দেয় তার প্রভাব পড়বে বাকি গ্রন্থিগুলোর উপর, এর ফলে যা হরমোন দরকার অনেকক্ষেত্রে তার কম বা বেশি উৎপন্ন হয়ে যায়। যা থেকে রোগের সৃষ্টি হয়।

থাইরয়েডের রোগ কি (What is thyroid disease Bangla)

থাইরয়েড গ্রন্থি সাধারণত হরমোন তৈরি করে যা আমাদের শরীরকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করে

কিন্তু থাইরয়েডের রোগগুলি হল এমন কিছু রোগ যা মুলত হরমোনের প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্ষরণ বা বেশি ক্ষরণের ফলে হয়ে থাকে। যা বিভিন্ন ধরণের গঠন বা কাজকে প্রভাবিত করে।

একজনের থাইরয়েড কতটা হরমোন তৈরি করে তার উপর নির্ভর করে , সে অস্থির বা ক্লান্ত বোধ করতে পারে বা তার ওজনের পরিবর্তন হতে পারে।

পুরুষদের তুলনায় মহিলারা থাইরয়েড রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, বিশেষত গর্ভাবস্থার পরে এবং মেনোপজের পরে।

থাইরয়েড রোগের প্রকার (Types of Thyroid Disease)

থাইরয়েডের ক্ষরণের উপর নির্ভর করে দুটি প্রধান অবস্থা হতে পারে –

  • হাইপোথাইরয়েডিজম
  • হাইপারথাইরয়েডিজম

যা, মুলত থাইরয়েড হরমোনের ক্ষরণের জন্য হয়ে থাকে

 ক. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)

থাইরয়েড গ্রন্থি যখন খুব কম থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে তখন আপনার শরীর খুব দ্রুত শক্তি ব্যবহার করে। একে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) বলা হয়।

এর ফলে শরীর খুব দ্রুত শক্তি ব্যবহার শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে । এছাড়া এটি –

  • হার্টকে আরও দ্রুত করে তুলতে পারে
  • ওজন কমতে পারে
  •  নার্ভাস বোধ করতে পারে

হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের কম ক্ষরণ) বিভিন্ন রোগের কারণে হতে পারে। সেই সমস্ত রোগগুলো নিয়ে আলোচনা করা হল –

১. গয়েটার(Goitar)

এক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থিটি বড় হয়ে বা ফুলে যায়। একে গয়েটার (Goiter) বা গলগন্ড বলা হয়।

থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিনের দরকার হয়, সেজন্য আয়োডিনের অভাব হলে গ্রন্থিটি প্রয়োজন মতো হরমোন তৈরি করতে পারেনা। তবুও এটি চেষ্টা করে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করতে।

ফলস্বরূপ শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে এটি নিজে ফুলে ওঠে। একটা সময় এটি স্বাভাবিক মাত্রায় হরমোন তৈরি করতে আর পারেনা। ফলে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কমে যায়। এর ফলে হাইপোথাইরয়ডিজম এ আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভবনা থাকে।

এজন্য যেসব শিশু বা মানুষ আয়োডিন অভাবে ভুগে তাদের এই রোগ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তবে বর্তমানে লবণের সাথে আয়োডিন গ্রহণের ফলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশেই কমে এসেছে।

২. থাইরয়েডাইটিস (Thyroiditis)

এটি থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ হলে বা ফুলে গেলে হয়। এর ফলে থাইরয়েডের হরমোনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

৩. হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস ( Hashimoto’s thyroiditis)

হাশিমোটো রোগের নামে প্রকাশ করে কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের ( Kyushu University) মেডিক্যাল স্কুলে জাপানি চিকিৎসক হাক্কু হাশিমোটো

হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস, সাধারণত হাশিমোটো রোগ হিসাবেও পরিচিত। এটি একটি অটোইমিউন রোগ অর্থাৎ নিজের immune system নিজের শরীরকেই আক্রমন করে। এখানে শরীর থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে এবং থাইরয়েড গ্রন্থিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে ফেলে।

প্রাথমিক অবস্থায় কোন লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও সময়ের সাথে সাথে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হতে হতে একটি ব্যথাহীন গয়টারে পরিণত হয় 

কিছু লোকের হাইপোথাইরয়েডিজম অবস্থায় চলে আসে। যার ফলে তাদের ওজন বৃদ্ধি পায়, ক্লান্ত, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিষণ্নতা এবং সাধারণ যন্ত্রণা অনুভব হয়। বহু বছর পর থাইরয়েড সাধারণত আকারে সঙ্কুচিত হয়।

৪. প্রসবের পরের থাইরয়েডাইটিস (Postpartum thyroiditis)

প্রসবের পরে 5% থেকে 9% মহিলাদের মধ্যে এই অবস্থা দেখা দেয়। তবে এটি সাধারণত অস্থায়ী হয়ে থাকে

৫. আয়োডিনের ঘাটতি (Iodine deficiency)

থাইরয়েড গন্থি T3 এবং T4 থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে আয়োডিন ব্যবহার করে। তবে আয়োডিনের ঘাটতি সমস্যার ফলে হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে

৬. থাইরয়েড গ্রন্থির অকার্যক্ষমতা (non-functioning thyroid gland)

কখনও কখনও থাইরয়েড গ্রন্থি জন্ম থেকেই সঠিকভাবে কাজ করে না। এটি প্রতি 4,000 শিশুর মধ্যে প্রায় 1 জনের হয়ে থাকে। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে ভবিষ্যতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক উভয় সমস্যা হতে পারে। নবজাতকের থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হাসপাতালে screening blood test করা হয়ে থাকে

খ. হাইপারথাইরয়ডিজম (Hyperthyroidism)

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে খুব বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে তাকে হাইপার থাইরয়েডিজম বলা হয়।

আপনার শরীরে যখন খুব কম থাইরয়েড হরমোন থাকে, তখন তা

  • ক্লান্ত বোধ করাতে পারে,
  • ওজন বাড়তে পারে
  • তাপমাত্রা তারতম্য বুঝতে নাও পারেন

হাইপারথাইরয়ডিজম (বেশি ক্ষরণ ) বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন –

১. গ্রেভ রোগ (Graves’ disease)

গ্রেভস ডিজিজ একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার ( নিজের ইমিউনিটি সিস্টেম নিজের দেহে আক্রমন করে) যা সাধারনত হাইপারথাইরয়েডিজম তৈরি করে

এই রোগে নিজের ইমিউনিটি সিস্টেম নিজের থাইরয়েডকে আক্রমণ করে এবং এটি আপনার শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে।

এই সমস্যাটিকে diffuse toxic goiter ও বলা হয়

২. নডিউল(Nodule)

থাইরয়েড নডিউল হল থাইরয়েড গ্রন্থির লোবে টিউমার বা ফুলে যাওয়া।

এক্ষেত্রে একটি টিউমার থাকলে তাকে, toxic autonomously functioning thyroid nodule বলে এবং একের বেশি টিউমার থাকলে তাকে toxic multi-nodular goiter বলে

৩. অতিরিক্ত আয়োডিন ( Excessive iodine)

আপনার শরীরে যখন আপনার অত্যধিক আয়োডিন থাকে (আয়োডিন যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) তখন থাইরয়েড গ্রন্থি অনেক বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। যার ফলে হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। 

এছাড়া অতিরিক্ত কিছু আয়োডিন কিছু ওষুধ যেমন – অ্যামিডেরন এবং কাশির সিরাপগুলিতে পাওয়া যায়, যারা এগুলো গ্রহণ করেন তাদের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে 

৪. থাইরয়েড ক্যান্সার (Thyroid cancer)

থাইরয়েড গ্রন্থির সাধারণ কোষগুলি জিনে পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়ে গেলে থাইরয়েড ক্যান্সার বিকশিত হয়। স্বাভাবিক কোষগুলি অস্বাভাবিক রুপ ধারন করে। এই অস্বাভাবিক কোষগুলি থাইরয়েডে বহুগুন বাড়তে শুরু করে কারন এরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষ বিভাজন শুরু করে এবং কোষগুলি ১ থেকে ২ , ২ থেকে ৪, ৪ থেকে ৮ এরকম করে খুব কম সময়েই বাড়তে থাকে।এবং যা পরে  টিউমার তৈরি করে

Thyroid cancer বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে –

  • Papillary thyroid cancer
  • Follicular thyroid cancer
  • Medullary cancer
  • Anaplastic thyroid cancer

থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ (Symptoms of thyroid cancer bangla)

থাইরয়েড ক্যান্সার হলে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও লক্ষণ দেখা না গেলেও  এটি বাড়তে থাকার সাথে সাথে নীচের যে কোনও সমস্যা দেখা যেতে পারে –

  • ঘাড়, গলায় ব্যথা
  • গলা ফুলে যাওয়া
  • কিছু গিলতে অসুবিধা
  • কণ্ঠস্বর পরিবর্তন
  • কাশি হওয়া

কারা থাইরয়েডে আক্রান্ত হতে পারে (Risk Factor)

পুরুষ, মহিলা, শিশু, কিশোর এবং বয়স্ক যে কেউ থাইরয়েডে আক্রান্ত হতে পারে। এটি জন্মের সময় থেকেই উপস্থিত থাকতে পারে, আবার এটি অন্য সময় যেমন – মহিলাদের মধ্যে মেনোপজের পরে হতে পারে।

থাইরয়েডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একজন মহিলার একজন পুরুষের চেয়ে পাঁচ থেকে আটগুণ বেশি

কাদের থাইরয়েড জনিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে –

  • যাদের থাইরয়েড রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে
  • যারা চিকিত্সাজনিত অবস্থায় রয়েছে ( রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া, টাইপ 1 ডায়াবেটিস, অ্যাড্রিনাল insufficiency, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, টার্নার সিনড্রোম যাদের থাকে)
  • যারা বেশি আয়োডিন যুক্ত ওষুধ গ্রহণ করেন যেমন – amiodarone
  • যারা অতীতে থাইরয়েডের জন্য ট্রিটমেন্ট বা ক্যান্সারের ট্রিটমেন্ট করেছেন

মহিলাদের থাইরয়েড সমস্যা কি কি ? 

  • মাসিক চক্রে সমস্যা – খুব বেশি বা খুব সামান্য থাইরয়েড হরমোন পিরিয়ড অনিয়মিত করতে পারে। এছাড়াও থাইরয়েড রোগ পিরিয়ড কয়েক মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য থামাতে পারে, যা অ্যামেনোরিয়া নামে পরিচিত
  • প্রেগন্যান্ট হওয়ার সমস্যা –  থাইরয়েড রোগ মাসিক চক্রকে প্রভাবিত, সেটি আবার ডিম্বস্ফোটন (ovulation)কে প্রভাবিত করে। যা গর্ভবতী হতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে
  • গর্ভাবস্থায় সমস্যা গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা মা এবং শিশুর উভয়েরই স্বাস্থ্যের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে

থাইরয়েড রোগ কি ধরণের মহিলাদের প্রভাবিত করে?

থাইরয়েডের রোগ সেই সমস্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে যাদের –

  • অতীতে থাইরয়েডের সমস্যা ছিল
  • থাইরয়েড গ্রন্থি প্রভাবিত কোনো অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপি হয়েছিল
  • যাদের গয়টার, অ্যানিমিয়া, বা টাইপ 1 ডায়াবেটিস আছে

থাইরয়েড লক্ষণ (Symptoms Of Thyroid Bengali)

থাইরয়েডের ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা হতে পারে –

  • হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের কম ক্ষরণ)
  • হাইপারথাইরয়ডিজম (বেশি ক্ষরণ )

এই অবস্থা অনুযায়ী যে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল –

হাইপোথাইরয়েডিজম (কম ক্ষরণ) এর লক্ষণ

  • পেশী এবং বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যাথা অনুভূত হওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া
  • পালস রেট স্বাভাবিক এর তুলনায় কম থাকতে পারে
  • অমনোযোগী হয়ে পড়া বা ভুলে যাওয়া
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  •  শীতল তাপমাত্রায় অসহিষ্ণুতা বা অল্পতেই শীত অনুভব করা
  • কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া
  • খুবই ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব হওয়া
  • মহিলাদের খুব বেশি মাসিক হওয়া এবং ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত পরিমাণ রক্তক্ষরণ হতে পারে
  • মন বিষণ্ণ থাকা

হাইপারথাইরয়ডিজম (বেশি ক্ষরণ) এর লক্ষণ

  • অনিদ্রা বা ঠিকমত ঘুম না হওয়া
  • ওজন কমে যাওয়া
  • একটুতেই গরম সহ্য না করতে পারা অর্থাৎ গরমে সংবেদনশীল হয়ে পড়া
  • পেশী দুর্বলতা এবং কাঁপুনি
  • চুল অনেক পাতলা এবং ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে পড়া
  • খাবার হজমে সমস্যা
  • ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া
  • উদ্বেগ, বিরক্ত এবং ভয় অনেক বেড়ে যাওয়া
  • দৃষ্টির সমস্যা বা চোখে জ্বালা অনুভূত হওয়া
  • অস্থিরতা অনুভব করা
  • মহিলাদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত কিংবা খুব অল্প পরিমাণে হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • পালস রেট বেড়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

থাইরয়েড পরীক্ষা ও টেস্ট (Thyroid Test)

থাইরয়েড এর সমস্যা বিভিন্ন পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়ে থাকে। যেমন –

১. Thyroid Stimulating Hormone Test (TSH)

থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) পিটুইটারি গ্রন্থিতে উত্পাদিত হয় এবং রক্ত ​​প্রবাহে T4 এবং T3 থাইরয়েড হরমোনগুলির ভারসাম্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।  থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন পরীক্ষায় রক্তে TSH এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক TSH range 0.5 – 6 mIU/mL (milli-international unit /mililiter of blood)। সুতরাং রক্তে TSH এর মাত্রা এর কম হলে বুঝতে হবে ব্যাক্তিটি হাইপারথাইরয়ডিজমে বা হাইপোথাইরয়ডিজমে আক্রান্ত কিনা

২. Thyroxine Hormone Test (T4)

থাইরক্সিন (T4) সাধারণত “স্টোরেজ” হরমোন হিসাবে কাজ করে। এই হরমোন নিজে থেকে শক্তি উত্পাদন করতে বা কোষগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে অক্ষম । তবে এটি monodeiodination নামে একটি পদ্ধতিতে আয়োডিনের একটি পরমাণুকে ত্যাগ করে T3 হরমোন হরমোনে পরিনত হয়। । এখানে দুটো প্রধান জিনিসকে মাপা হয়ে থাকে-

  • Total T4 – যা রক্তে সমস্ত ট্রাই -আয়োডোথাইরোনিন বা T3 হরমোন কে পরিমাপ করে
  • Free T4 – এটি প্রোটিনের সাথে যুক্ত থাকেনা এবং এটি থাইরক্সিনের সক্রিয় রূপ হিসাবে বিবেচিত হয়

একজন প্রাপ্তবয়স্কের রক্তে T4 হরমোনের সাধারণ মাত্রা 4.6 – 12 ug/dL (মাইক্রোগ্রাম/ ডেসিলিটার)। T4 হরমোনের সাধারণ মাত্রা এর কম থাকলে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেশি থাকলে হাইপারথাইরয়েডিজমকে বোঝানো হয়

৩. T3 হরমোন টেস্ট

ট্রাই -আয়োডোথাইরোনিন বা T3 হরমোন হ’ল সক্রিয় থাইরয়েড হরমোন যা T4 হরমোন পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়। এক্ষেত্রে তিনটি আলাদা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে

ট্রাই -আয়োডোথাইরোনিন বা T3 হরমোনের মাত্রা নির্ণয় পরীক্ষা হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম নির্ণয়ে সাহায্য করে। রক্তে স্বাভাবিক T3 হরমোনের রেঞ্জ 80 – 180 ng/dL (ন্যানোগ্রাম/ ডেসিলিটার)

থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয় করতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হয় –

  • Total T3 – এটি রক্তে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত T3 হরমোনের পরিমাপ । এক্ষেত্রে প্রোটিনের সাথে যুক্ত এবং অযুক্ত টোটাল হরমোন মাপা হয়।
  • Free T3 – এটি প্রোটিনের সাথে আবদ্ধ থাকেনা এবং T3 হরমোনের সক্রিয় রূপ হিসাবে ধরা হয়
  • Reverse T3 – এটি T3 হরমোনের inactive বা নিস্ক্রিয় ফর্ম । এটি আকারে T3 হরমোনের প্রতিচ্ছবি বা mirror image হয়ে থাকে

৪. Thyroglobulin (Tg)

থাইরোগ্লোবুলিন (Tg) হ’ল থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উত্পাদিত একটি প্রোটিন। এটি বেশিরভাগই থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিত্সায় টিউমার চিহ্নিতকারী হিসাবে ব্যবহার করা হয়

৫. থাইরয়েড অ্যান্টিবডি টেস্ট (Thyroid Antibody)

আমাদের নিজেদের ইমিউনিটি পাওয়ার নিজেদের থাইরয়েডের গ্রন্থির সমস্যার সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় autoimmune disease। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ভুলভাবে আমাদের কোষকে টার্গেট করে এবং আক্রমণ করে তখন অটোইমিউন রোগ হয়।

তিন ধরনের অ্যান্টিবডি মুলত অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের সাথে যুক্ত থাকে –

  • Thyroid Peroxidase Antibody (TPOAb)
  •  Thyroglobulin Antibody (TgAb)
  • Thyroid Stimulating Hormone Receptor Antibody (TRAb)

৬. থাইরয়েড বাইন্ডিং প্রোটিন পরীক্ষা

থাইরয়েড বাইন্ডিং প্রোটিন এর কাজ হল T3 ও T4 হরমোনের সাথে যুক্ত হয়ে হরমোনগুলিকে রক্তে বহন করে নিয়ে যাওয়া

এক্ষেত্রে  থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয় করতে থাইরয়েড বাইন্ডিং প্রোটিন পরীক্ষা করা হয়ে থাকে

এখানে তিনটি জিনিস পরিমাপ করা হয় –

  • Thyroid binding globulin (TBG)
  • T3 resin uptake (T3RU)
  • Free thyroxine index (FTI)

৭. ইমেজিং পরীক্ষা

অনেক ক্ষেত্রে, থাইরয়েডের দিকে একবার ভালো ভাবে দেখলেই অনেক কিছু সাধারনভাবে নির্ণয় করা যায় ডাক্তাররা অনেক ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির আকার, আকৃতি বা বৃদ্ধির চেক করার জন্য ইমেজিং পরীক্ষা করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিউক্লিয়ার থাইরয়েড স্ক্যান, থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড, কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি স্ক্যান (CT scan) এর মত কিছু পরীক্ষার সাহায্য নেন

৮. শারীরিক পরীক্ষা

থাইরয়েডটি দ্রুত চেক করার আরেকটি খুব সহজ সাধারণ উপায় হল থাইরয়েডের বৃদ্ধির জন্য গলার নিচে হাত দিয়ে থাইরয়েড গ্রন্থিটি অনুভব করা। তবে এটি বিশেষজ্ঞের দ্বারাই করানো উচিত

থাইরয়েড চিকিৎসা ( Thyroid Treatment Bangla)

ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞেরা সর্বদা চেষ্টা করে থাইরয়েড হরমোন স্তর স্বাভাবিক রাখতে। এটি বিভিন্ন উপায়ে করা যেতে পারে এবং তা চিকিত্সা থাইরয়েড রোগের হওয়ার কারণের উপর নির্ভর করে থাকে

উচ্চ মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন( হাইপারথাইরয়েডিজম) থাকলে নীচের ট্রিটমেন্টের সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে –

  • অ্যান্টি থাইরয়েড ড্রাগস (methimazole এবং propylthioracil ) – এগুলি এমন কিছু ওষুধ যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে হরমোন তৈরি থেকে আটকে দেয়।
  • তেজস্ক্রিয় আয়োডিন – এই চিকিত্সাটি  থাইরয়েডে গ্রন্থির কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং উচ্চ মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে বাধা দেয়।
  • বিটা ব্লকার – এই ওষুধগুলি সাধারণত দেহে হরমোনের পরিমাণ পরিবর্তন করে না, তবে এগুলো লক্ষণগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
  • থাইরয়েড অপারেশন বা সার্জারি – এটি থাইরয়েডের সমস্যার স্থায়ী সমাধান । ডাক্তারেরা থাইরয়েড গ্রন্থিকে অপারেশন করে বাদ দিয়ে দেয়।এই পদ্ধতিকে বলা হয় থাইরয়েডেক্টমি (thyroidectomy)

তবে এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা রোগীর আর থাইরয়েড হরমোন তৈরি হবেনা এবং তাকে সারাজীবন থাইরয়েড রিপ্লেসমেন্ট হরমোন গ্রহণ করতে হবে

আবার থাইরয়েড হরমোনগুলি (হাইপোথাইরয়েডিজম) কম থাকলে নীচের চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে –

  • থাইরয়েড ফেরানোর ওষুধ –

এটি একটি ওষুধ যা কৃত্রিম উপায়ে শরীরে পুনরায় হরমোন লেভেল স্বাভাবিক করে দেয় । এক্ষেত্রে একটি ওষুধ যা ব্যবহৃত হয় তা হল levothyroxine।এই ওষুধ ব্যবহার করে থাইরয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি সাধারণ জীবনযাপন করা যায়। তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে করা উচিত

থাইরয়েড টেস্ট রিপোর্ট ( Thyroid Test Report Bangla)

এখানে কিছু থাইরয়েড টেস্টের নাম এবং তাদের নরমাল রেঞ্জ এর টেবিল দেওয়া হল বোঝার সুবিধার জন্য

Test – টেস্টসংক্ষেপসাধারণ Range
Serum thyroxineT44.6-12 ug/dl
Free thyroxine fractionFT4F0.03-0.005%
Free ThyroxineFT40.7-1.9 ng/dl
Thyroid hormone binding ratioTHBR0.9-1.1
Free Thyroxine indexFT4I4-11
Serum TriiodothyronineT380-180 ng/dl
Free Triiodothyronine lFT3230-619 pg/d
Free T3 IndexFT3I80-180
Radioactive iodine uptakeRAIU10-30%
Serum thyrotropinTSH0.5-6 uU/ml
Thyroxine-binding globulinTBG12-20 ug/dl T4 +1.8 ugm
TRH stimulation test PeakTSH9-30 uIU/ml at 20-30 min
Serum thyroglobulin lTg0-30 ng/m
Thyroid microsomal antibody titerTMAbপদ্ধতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল
Thyroglobulin antibody titerTgAbপদ্ধতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল

Table Source

ডায়াবেটিস হলে থাইরয়েড হওয়ার ঝুঁকি থাকে ?

যদি কারুর ডায়াবেটিস থাকে তবে ডায়াবেটিসবিহীন মানুষের তুলনায় তাদের থাইরয়েড রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

টাইপ 1 ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার।কারোর যদি ইতিমধ্যে একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার থাকে তবে আরও একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

টাইপ 2 ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম, তবে কম হলেও না থাকা নয়। কারোর যদি টাইপ 2 ডায়াবেটিস হয় তবে তার জীবনের পরবর্তী সময়ে থাইরয়েড রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পড়ুন – ডায়াবেটিস কি বিস্তারিত

থাইরয়েড কমানোর উপায়

নিউট্রিয়েন্টস

  • থাইরয়েড রোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউট্রিয়েন্টস হল আয়োডিন। তাই আপনার অবস্থা অনুযায়ী আপনাকে আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজন অনুসারে বিরতও থাকতে হবে
  • এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউট্রিয়েন্টস হল সেলেনিয়াম

খাবার

  • মাছ – এটি সেলেনিয়ামের খুবই ভালো একটি উৎস
  • সবুজ শাকসবজি ও ফল – শাকসবজি ও ফলে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী
  • দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য – আমরা জানি দুধকে সুষম খাদ্য বলা হয়। প্রায় বেশিরভাগ nutrient দুধে পাওয়া যায়। দুধে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং আয়োডিনও যথেষ্ট পরিমাণে থাকে।
  • মটরশুটি – এটি শক্তির জন্য খাওয়া খুবই দরকার কারন হাইপোথাইরয়েডিজম হলে আপনি দুর্বলতা অনুভব করবেন। শুটি জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমানে protein, antioxidant, complex carbohydrate ছাড়াও vitamin, mineral থেকে থাকে

থাইরয়েডের ব্যায়াম

থাইরয়েড রোগের ক্ষেত্রে ব্যায়াম খুবই উপকারী হয়ে থাকে। আগে আমরা দেখলাম থাইরয়েড রোগের জন্য কি কি সমস্যা হয়ে থাকে। ব্যায়াম করলে যে যে উপকারগুলি আপনি পাবেন তা হল –

  • শরীরের energy level বাড়িয়ে দেবে
  • ঘুম ভালো এবং গভীর হবে
  • মেজাজ ভালো করবে এবং ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দেবে
  • শরীরের বিপাককে বাড়িয়ে তোলে
  • হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়

আপনি যে যে ব্যায়ামগুলি করতে পারবেন তা হল –

যারা শুরু করবেন তাদের জন্য ব্যায়াম –

অনেকদিন যারা ব্যায়াম করেননি বা প্রথম করবেন তারা প্রথমে হালকা ধরনের ব্যায়াম করুন যাতে শরীর অ্যাডজাস্ট করতে পারে। আপনি যেগুলো করতে পারেন তা হল –

  • হাঁটা চলা
  • শক্তি প্রশিক্ষণ
  • বাইক চালানো বা ইনডোর সাইকেল চালানো
  • সিঁড়ি চড়া বা আরোহণ
  • যোগা করা
  • নাচ
  • সাঁতার
  • অন্য যেকোনো ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ

পরবর্তী ক্ষেত্রে আপনি যে কোনো ভারী ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়া জিমে ভার উত্তোলন করতে পারেন

থাইরয়েডের খাবার (Food For Thyriod Patient)

থাইরয়েডে উপকারি খাবার

অনুকূল থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কয়েকটি পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ-

  • আয়োডিন – আয়োডিন একটি প্রয়োজনীয় খনিজ যা থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে প্রয়োজনীয়। সুতরাং, আয়োডিনের ঘাটতিযুক্ত ব্যক্তিদের হাইপোথাইরয়েডিজমের ঝুঁকি হতে পারে (রেফারেন্স )

আপনার যদি আয়োডিনের ঘাটতি থাকে তবে আপনার খাবারে আয়োডিনযুক্ত টেবিল লবণ যুক্ত করতে বা সামুদ্রিক শৈবাল, মাছ, দুগ্ধ এবং ডিমের মতো আরও আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করুন।

  • সেলেনিয়াম – সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনগুলিকে “সক্রিয়” করতে সহায়তা করে যাতে শরীর সেগুলি ব্যবহার করতে পারে (রেফারেন্স)। এই অপরিহার্য খনিজটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুবিধাও রয়েছে, এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে ড্যামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। (রেফারেন্স)
  • জিংকসেলেনিয়ামের মতো, জিংক শরীরকে থাইরয়েড হরমোনগুলিকে “সক্রিয়” করতে সহায়তা করে (রেফারেন্স)

গবেষণায় জানা যায় জিংক শরীরকে TSH হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণের কারন (রেফারেন্স)

নোটগবেষণায় দেখা গেছে আয়োডিন, সেলেনিয়াম এবং জিংক হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্তদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। তবে, যদি কোনও স্ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ আপনাকে সেগুলি গ্রহণের পরামর্শ না দেয় তবে তা অবশ্যই এড়িয়ে চলুন

থাইরয়েড নিষিদ্ধ খাবার

হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে বেশ কয়েকটি পুষ্টি উপাদান। গাইট্রোজেনস তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য 

গাইট্রোজেন হল এমন একটি যৌগ যা থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক ক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। সেজন্য গাইট্রোজেন সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

গাইট্রোজেন নামটি এসছে গয়টার থেকে। যে সব খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো হল –

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীর নিষিদ্ধ খাবার

  • টফু,
  • বাঁধাকপি
  • ব্রকলি
  • ফুলকপি
  • পালং শাক
  • মিষ্টি আলু
  • স্ট্রবেরি
  • বাজরা
  • পাইন বাদাম
  • মাখন বা ভাজা জিনিস, ফাস্ট ফুড
  • কেক
  • চিনাবাদাম

 

প্রশ্ন উত্তর

থাইরয়েড কি ভালো হয় ?

এটি নিজে থেকে ভালো হয়না, চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হয়েছে। যা কিছু ক্ষেত্রে ভালো হয়

থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না ?

হয়। তবে বাচ্ছারও হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। যাকে congenital hypothyroidism বলে

থাইরয়েড কোথায় থাকে ?

গলার সামনে একটি ফোলা অংশ ঠিক তার নিচেই থাইরয়েড গ্রন্থি থাকে

থাইরয়েড কি ছোঁয়াচে রোগ ?

না, থাইরয়েড ছোঁয়াচে রোগ নয়

থাইরয়েড কি বংশগত রোগ ?

অনেক ক্ষেত্রে বংশগত হয়ে থাকে

থাইরয়েড কিভাবে হয় ?

থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার ফলে থাইরয়েড হরমোন কম বেশি তৈরি হলে রোগ হয়ে থাকে

থাইরয়েডের ওষুধ কি আছে ?

না সেরকম কিছু ওষুধ নেই

থাইরয়েড নডিউল কি ?

থাইরয়েড নডিউল হল থাইরয়েড গ্রন্থির লোবে টিউমার বা ফুলে যাওয়া অংশ

থাইরয়েড মানে কি ?

থাইরয়েড গলার নীচের একটি গ্রন্থি যা থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে

থাইরয়েড কিসের জন্য বা কারণে হয় ?

থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার কারণে কম বা বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে হয়ে থাকে

থাইরয়েড এর নরমাল মাত্রা কত ?

থাইরয়েড এর টেস্টের নরমাল মাত্রা বিষয়ে টেবিলে দেওয়া হয়েছে

থাইরয়েড কেন হয় ?

থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায়, পিটুইটারি, হাইপোথ্যালামাস অনেকাংশে দায়ী

হাইপার থাইরয়েড কি ?

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে খুব বেশি থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

হাইপার থাইরয়েড কেন হয় ?

হাইপার থাইরয়েড T3 এবং T4 থাইরয়েড হরমোন বেশি ক্ষরিত হলে হয়

থাইরয়েড কমে গেলে কি হয়

থাইরয়েড কমে গেলে হাইপোথাইরয়েডিজম হয় , এটি যে যে রোগের জন্য হতে পারে তা হল গয়েটার, থাইরয়েডাইটিস, হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস, আয়োডিনের ঘাটতি

থাইরয়েড কি খেলে ভালো হয় ?

চিকিৎসকের পরামর্শে পরিমান মতো আয়োডিন,সেলেনিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া দরকার । তবে বেশি খাওয়া উচিত নয়, নয়তো তা আবার অন্য রোগ সৃষ্টি হয়

রেফারেন্স

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *